সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

রজঃস্বলা মীমাংসা

নমস্কার। 
বর্তমান সময়ে সনাতন ধর্মে নারীদের অধিকার বা তাঁদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কথা বললেই একদল নামধারী পণ্ডিত বলে উঠে, ″নারীরা নরকের দ্বার″, একথা আমার নয়, একথা বলেছেন শঙ্করাচার্য নিজেই; [রেঃ প্রশ্নোত্তরী ৩]। শুধু তাই নয় সেই পণ্ডিতদের চোখের মণি শ্রীমদ্ভাগবতে বলা রয়েছে ″স্ত্রীশূদ্রদ্বিজবন্ধূনাং ত্রয়ী ন শ্রুতিগোচরা″ [রেঃ ভাগবত স্কন্ধ ১, অধ্যায় ৪, শ্লোক ২৫] অর্থাৎ, স্ত্রী, শূদ্র, পতিত দ্বিজাতি—এরা তিন শ্রেণীই বেদ শ্রবণে অনধিকারী। তাই তারা নারীদের সর্বদা অবহেলার নজরে দেখে। আর তাদের মুখেই যদি শোনেন যে, নারীর রজঃস্বলা অবস্থায় যজ্ঞাদি কর্মের অধিকার নেই। তো এ আর এমন কি? যারা সাধারণ ভাবেই এতটা নারী বিরোধী, তারা তো রজঃস্বলা অবস্থায় নারীদের অপবিত্র বলবেই। 
তবে এখানে বেশ মজার বিষয় হচ্ছে, সেইসব নামধারী কিছু পণ্ডিত বেশকিছু শাস্ত্রীয় রেফারেন্স দিয়ে ″নারীরা রজঃস্বলা অবস্থায় যজ্ঞাদি কর্মে অনধিকারী″ প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। আজকের এই পর্বে, সেগুলোর খণ্ডন ও বেদাদি শাস্ত্রের বিবিধ রেফারেন্স দিয়ে নারীর রজঃস্বলা বিষয়ে বিস্তারিত লিখবো। 

ভাগবত পুরাণেই বলা রয়েছে যে, ″বেদপ্রণিহিতো ধর্মো হ্যধর্মস্তদ্বিপর্যয়″ [রেঃ শ্রীমদ্ভাগবত- ৬/১/৪০] অর্থাৎ, একমাত্র বেদে যা বলা আছে তাই ধর্ম; পক্ষান্তরে যা বেদনিষিদ্ধ তা সকলই অধর্ম এবং বিপর্যয়ের পথ। 
কেন এইরকমটা বলা হলো জানেন কি? কারণ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন ″তস্মাৎ শাস্ত্রং প্রমাণং তে কার্য অকার্য ব্যবস্থিতৌ″ [গীতা ১৬/২৪] অর্থাৎ, হে অর্জুন কোনটা তোমার কর্তব্য ও কোনটা তোমার অকর্তব্য; উভয়ের নির্ণয়ে বেদ হলো প্রমাণ। এখন আপনারা বলতেই পারেন যে, উক্ত শ্লোকে তো ″শাস্ত্র″ শব্দ রয়েছে, তাহলে আপনি বেদ পেলেন কোথায়? দেখুন ব্রহ্মসূত্র বা বেদান্ত দর্শনের [রেঃ ১/১/৩] মধ্যে শাঙ্করভাষ্যে শঙ্করাচার্য নিজেই শাস্ত্র শব্দের অর্থ বেদ করেছেন। এখন তবুও আপনার সংশয় নিবারন হলো না, এবার তাহলে আমরা দেখে নেই মহর্ষি আপস্তম্ব কী বলেছেন বেদ সম্পর্কে - ″বেদাশ্চ“ = 'বেদ এব মূলং প্রমাণম্ ধর্ম অধর্মঃ' [রেঃ আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১/১/১/৩] অর্থাৎ, ধর্ম-অধর্ম নির্ণয়ে মূল প্রমাণ হচ্ছে পবিত্র বেদ। শুধু এতটুকুই নয়, এই বিষয়ে মহর্ষি মনু বলেছেন ″বেদোঽখিলো ধর্মমূলং″ [রেঃ মনুস্মৃতি ২/৬] অর্থাৎ, বেদ হলো সনাতন ধর্মের মূল। মহর্ষি মনু আরও বলেছেন ″ধর্ম জিজ্ঞাস মানানাং প্রমাণং পরমং শ্রুতিঃ″ [রেঃ মনুস্মৃতি ২/১৩] অর্থাৎ, কেউ যদি ধর্ম-অধর্ম সম্পর্কে জানতে চায় তাঁর জন্য পরম প্রমাণ হচ্ছে পবিত্র বেদ। এছাড়াও মীমাংসা দর্শনে মহর্ষি জৈমিনি বলেছেন 'বেদ হচ্ছে স্বতঃ প্রমাণ' [রেঃ মীমাংসা দর্শন ১/১/৫]। 

এখন একটু বিশেষ ভাবে লক্ষ্য করুন — 
য়া বেদবাহ্যাঃ স্মৃতয়ো য়াশ্চ কাশ্চ কুদৃষ্টয়ঃ। 
সর্বাত্মা নিষ্ফলা প্রেত্য তমোনিষ্ঠা হি তাঃ স্মৃতা॥ 
[মনুস্মৃতি ১২/৯৫] 
অর্থঃ (য়া বেদবাহ্যাঃ স্মৃতয়ঃ) সংসারে যে বেদোক্ত ধর্মের প্রতিকূল স্মৃতি তৈরি হবে বা রয়েছে (চ) এবং (য়া কাশ্চ কুদৃষ্টয়ঃ) যে সমস্ত বেদবিরোধী বিচার রয়েছে বা তৈরি হবে (তাঃ সর্বাঃ নিষ্ফলাঃ) সেই সব নিষ্ফল। (তাঃ প্রেত্য তমোনিষ্ঠাঃ হি স্মৃতাঃ) সেগুলো পরলোকে নিশ্চিত রূপে তমোগুণী দুঃখময় জন্মকে প্রাপ্ত করায়। 

পরবর্তী শ্লোকের সরলার্থে মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী বলেছেন – "যে সমস্ত গ্রন্থ এই বেদের সহিত বিরুদ্ধ হবে বা রয়েছে, সেগুলো আধুনিক হওয়ায়; সেগুলোর মান্যতা নিষ্ফল ও মিথ্যা।" [মনুস্মৃতি ১২/৯৬] 

এবার আসি সেই নামধারী পণ্ডিতদের দাবিতে ~~ 
★ আপস্তম্ব সংহিতা ৭/৩ মধ্যে নারীদের রজঃস্বলা কালে নারীকে অপবিত্র বা অসূচী বলা হয়েছে। 
মীমাংসা – তাদের এই উল্লেখিত সূত্রটি [আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১/১/১/৩] এর সহিত সাংঘর্ষিক; কারণ এখানে ধর্মের মূখ্য প্রমাণ হচ্ছে বেদ, আর বেদমন্ত্রে বলা রয়েছে যে, নারীরা সর্বদা পবিত্র বা শুভ্রময়ী। [রেঃ অথর্ববেদ ১১/১/১৭]।
☞ এই দাবিটি মনুস্মৃতি [১২/৯৫] তথা আপস্তম্ব ধর্মসূত্র [১/১/১/৩] এর আলোকে বেদমন্ত্রের সহিত সাংঘর্ষিক হওয়ায় পরিত্যাজ্য। 

★ অঙ্গিরঃ সংহিতা ১/৩৫ ও ১/৩৭ মধ্যে বলা হয়েছে যে, "যে পর্যন্ত রজঃপ্রবৃত্তি হয়, (অর্থাৎ তিন দিন) তাবৎ (ততদিন) স্ত্রীলোক সদাচার (পবিত্র) নহে।" 
এই সূত্রে বর্ণিত বিষয় [যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি ১/৭১] এর সহিত সাংঘর্ষিক। সেখানে বলা রয়েছে, "নারীজাতি সোম থেকে শুদ্ধতাপ্রাপ্ত, গন্ধর্বদের থেকে সুমিষ্ট বাক্য প্রাপ্ত, অগ্নির কাছ থেকে শুদ্ধতাপ্রাপ্ত; তাই নারীরা [সর্বদা] শুদ্ধ।" 
☞ এখানে তাদের উল্লেখিত স্মৃতিবাক্য অন্য স্মৃতির সহিত মিলছে না। এরূপ অবস্থায় একটিকেই মান্যতা প্রদান করতে হবে, এবং যেই স্মৃতিবাক্য বেদমন্ত্রের অনুরূপ বা বেদের অনুকূল হবে, তাই গ্রহণযোগ্য। অথর্ববেদ [১৪/২/২৮] এ বলা রয়েছে "এই বধু মঙ্গলময়ী, সকলে মিলিয়া ইহাকে দেখো, ইহাকে সৌভাগ্য দান করিয়া দূর্ভাগ্য বিদারিত করো।" যেখানে বেদমন্ত্রে নারীকে মঙ্গলময়ী বলা হয়েছে, সেখানে স্মৃতিতে নারীকে অপবিত্র বলা হলে তা আদৌ গ্রহণযোগ্য হবে না। 

★ তাদের অপযুক্তি তৈত্তিরীয় সংহিতা (কৃষ্ণ যজুর্বেদ) [২/৫/১/৫-৬] মধ্যে, "নারীরা রজঃস্বলা কালীন অপবিত্র, এবং তাঁদের স্পর্শ করা অন্ন কারোর গ্রহণ করা উচিত নয়"। প্রথমত, এই কৃষ্ণ যজুর্বেদ প্রকৃতপক্ষে বিশুদ্ধ নয়। তাই এর কোনো প্রমাণ আমরা মান্য করবো না। কেন কৃষ্ণ যজুর্বেদ প্রমাণ্য নয় বা কেন এর প্রমাণ আমরা মানি না, এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের ওয়েবসাইটের এই লেখাটি পড়ুন ~~ 
https://back2thevedas.blogspot.com/2017/09/blog-post_30.html?m=1

★ তাদের দাবী মীমাংসা দর্শন [৩/৪/১৮] তে স্ত্রীদের রজঃস্বলা অবস্থায় তাঁদের সহিত কথাবার্তা নিষেধ। 
আদৌ কি তাই লেখা রয়েছে,,,? চলুন দেখে নেই— 
"প্রাগপরোধান্মলবদ্বাসসঃ॥" 
অর্থ- (প্রাক্) দর্শ-পূর্ণমাস কর্মানুষ্ঠান প্রারম্ভ করার পূর্বে উপবাসের দিন (মলবদ্বাসসঃ) রজঃস্বলা স্ত্রীর (অপরোধাৎ) অপরোধ-অবরোধ হওয়ায়। ঔপবসথ্য বা দীক্ষার দিনেই যদি যজমান-পত্নী রজঃস্বলা হয়ে যায়, তো যজ্ঞে তাঁর উপস্থিতি বর্জিত করা হয়েছে। তখন দর্শ-পূর্ণমাস কর্মানুষ্ঠানের সময়ে রজঃস্বলা স্ত্রীর অনুপস্থিত হওয়ায় তাঁর সাথে সংবাদ আদির সম্ভাবনাই নেই। 
☞ পাঠকগণ, এখানে ভালোভাবে লক্ষ্য করুন। প্রথমত দর্শ-পূর্ণমাস কোনো নৈমিত্তিক যজ্ঞকর্ম নয়। এটি বিশেষ সময়ে পালনীয়। তো এই কর্মের কিছু নিয়ম-নীতি রয়েছে যে, এই কর্মের পূর্বে ঔপবসথ্য [এর একটি অংশ উপবাস] থাকতে হয়। এখন উপরোক্ত নিয়ম অনুসারে যদি ঔপবসথ্য না করা হয়, তো তাঁকে সেই যজ্ঞ কর্ম থেকে বিশ্রাম প্রদান করা হয় এবং সে যজ্ঞ স্থানে উপস্থিত থাকে না [অন্যান্য নৈমিত্তিক যজ্ঞ, তাঁরা করতে পারে]। আর স্বভাবতই যেখানে উক্ত ব্যক্তি উপস্থিতই থাকে না, সেখানে তাঁর সাথে সংবাদ (বার্তালাপ) হওয়া অসম্ভব কিছুই নয়। এখানে আরেকটি শঙ্কা উঠতে পারে যে, রজঃস্বলা হলে ঔপবসথ্য কেন হয় না? দেখুন ঔপবসথ্যের একটি অংশ হলো উপবাস। যেহেতু রজঃস্বলা অবস্থায় নারীদের শরীর দুর্বল হয়ে থাকে, তাই তৎকালে তাঁদের ঔপবসথ্য করার সামর্থ বা শারীরিক শক্তি থাকে না। 
[আর এইসব বিষয়ে বিস্তারিত না জেনেই নামধারী পণ্ডিতগণ বলে বেড়ায়, রজঃস্বলা অবস্থায় নারীদের যজ্ঞে অধিকার নেই] 

★ তাদের আরও একটি যুক্তি হলো যে, মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী তাঁর অমর গ্রন্থ সত্যার্থ প্রকাশের একাদশ সমুল্লাসে "রজঃস্বলা নারীদের স্পর্শ করা নিষিদ্ধ" বলেছে। 
তো চলুন আমরা সত্যার্থ প্রকাশ থেকেই দেখে নেই— 
❝এই সকল গণ্ডমূর্খ পোপের লীলা দেখ! এই বামমার্গীগণ বেদবিরুদ্ধ মহাপাপজনক কার্যগুলোকে উৎকৃষ্ট বলে মনে করলো। তারা মদ্য, মাংস, মীন অর্থাৎ মৎস, মুদ্রা, পুরী, কচুরী, বৃহৎ রুটি প্রভৃতি চর্বণ; যোনি, পাত্রাধার মুদ্রা এবং পঞ্চম মৈথুন অর্থাৎ সকল পুরুষ শিব এবং সকল স্ত্রীকে পার্বতী তুল্য মনে করে- 
"অহং ভৈরবস্ত্বং ভৈরবী হ্যাবয়োরস্তু সঙ্গমঃ॥" কু০ ত০ 
যে কোনো স্ত্রী বা পুরুষ হোক না কেন, এই নিরর্থক অকথ্য বচন পাঠ করে সমাগম করা বামমার্গীগণ দোষজনক মনে করে না। অর্থ্যাৎ যে সকল হীনচরিত্রা স্ত্রীলোককে স্পর্শ করতে নাই, তাহাদিগকে ইহারা অতি পবিত্র মনে করে। শাস্ত্রে রজঃস্বলা স্ত্রীলোকের স্পর্শ নিষিদ্ধ। বামমার্গীগণ তাকেও অতি পবিত্র মনে করে।❞ [সত্যার্থ প্রকাশ, একাদশ সমুল্লাস]  
☞ বিশেষ রূপে বিশ্লেষণ — কতবড় কাণ্ডজ্ঞানহীন হলে তারা মহর্ষির কথাকে ভুলভাবে প্রচার করে, দেখুন। মহর্ষিজী এখানে প্রথমে বলেছেন যে বামমার্গীগণ সকল নর-নারীকে শিব-পার্বতী ভেবে উপরোক্ত মন্ত্র জপ করে সমাগম করাকে উচিত মনে করে, এমনকি সেই নারী যদি চরিত্র হীনও হয় তবুও তারা তাকে পবিত্র মনে করে। তৎপশ্চাৎ তিনি বলেছেন "শাস্ত্রে রজঃস্বলা স্ত্রীলোকের স্পর্শ নিষিদ্ধ" কেন বলেছেন? কারণ তাঁরা সেই সময় দুবর্ল হয়ে থাকে, তো সেই সময় তাঁরা সাধারণ কার্য থেকেই দূরে থাকবে। তো, তাঁদের সহিত শারীরিক সম্পর্কের কথা তো বাদই। কিন্তু বামমার্গীগণ তাঁদেরকেও অতি পবিত্র মনে করে সম্ভোগের জন্য। এইজন্যই মহর্ষি জী বলেছেন যে, রজঃস্বলা নারীগণ স্পর্শের যোগ্য নয়, তা কোন উদ্দেশ্যে? কামে (যৌনতার) এর উদ্দেশ্যে। কেন তিনি এই প্রকরণে এই কথা বললেন? কারণ বামমার্গীগণ সর্বদা নারীদের ভোগ্য বস্তু মনে করে। তাই মহর্ষি উপরোক্ত কথাটি বলেছেন। কিন্তু বর্তমানে তার উল্টো অর্থ বের করে অনেকেই প্রচার করতেছে যে, মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী রজঃস্বলা স্ত্রীদের স্পর্শ যোগ্য মনে করেন নি। যা অত্যন্ত ধিক্কার জনক কার্য। 

★তাদের আরেকটি দাবি হলো মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী তার নিজ গ্রন্থ "সংস্কার বিধিতে" রজঃস্বলা নারীদের অপবিত্র মনে করেছেন। এই বিষয়ে বিস্তারিত আমাদের সাইটে বহু পূর্বেই লেখা রয়েছে। পড়ুন - https://back2thevedas.blogspot.com/2024/11/blog-post.html?m=1

ইতিপূর্বে আমরা নামধারী পণ্ডিতদের যারা রজঃস্বলা অবস্থায় নারীদের অপবিত্র মনে করতো এবং তাঁদের যজ্ঞে অধিকার নাই, এরূপ মানতো; তাদের সমস্ত যুক্তি বৈদিক শাস্ত্রের ভিত্তিতে খণ্ডন করেছি। এখন আমরা জানবো আমাদের আর্য পরম্পরার সিদ্ধান্ত। 

❝রজঃস্বলা বিষয়ের উপর আর্য পরম্পরার সিদ্ধান্ত❞
এই সময়ে আমাদের মা-বোনেদের শরীরের একপ্রকার দুর্বলতা অনুভব হয়। আর এই শারীরিক ব্যবস্থা ঈশ্বর প্রদত্ত প্রকৃতির নিয়ম। এই সময়ে তাঁদের অন্যান্য পরিশ্রমযুক্ত কাজও করা উচিত নয়, কারণ তাঁদের শরীর তখন কাজ সম্পাদনের জন্য উপযুক্ত থাকে না, তখন তাঁদের উচিত বিশ্রাম করা। সেই সময় তাঁরা আত্ম চিন্তন, উত্তম পুস্তকের অধ্যয়ন, জ্ঞান আহরন করবে। এখন আসি যজ্ঞ তথা অগ্নিহোত্র এবং নিত্যকর্ম আদি বিষয়ে। 
মনুস্মৃতিতে প্রতিদিন গায়ত্রী জপের বিধান রয়েছে, অর্থাৎ একদিনও গায়ত্রী পাঠ ব্যাতিত থাকা উচিত নয়। দেখুন - 
अपां समीपे नियतो नैत्यकं विधिमास्थितः । सावित्रीमप्यधीयीत गत्वारण्यं समाहितः ॥ 
[মনুস্মৃতি ২/১০৪] 
অর্থ- (নৈত্যকং বিধিম্ + আস্থিতঃ) সন্ধ্যোপাসনার অনুষ্ঠানকারী ব্যক্তি (অরণ্যং গত্বা) বন প্রবেশ অথবা একান্ত শান্ত প্রদেশে গিয়ে (অপাং সমীপে নিয়তঃ) জলস্থানের নিকট উপবেশন করে (সমাহিতঃ) ধ্যানমগ্ন হয়ে (সাবিত্রীম্ + অপি + অধীয়ীত) সাবিত্রী অর্থাৎ গায়ত্রী মন্ত্রের অর্থ সহিত জপ-চিন্তন করবে এবং তদানুসারে আচরণ করবে। 
☞ এখানে গায়ত্রী মন্ত্র দ্বারা নিত্য সন্ধ্যা উপাসনার বিধি কথিত হয়েছে। একই সিদ্ধান্ত মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী তাঁর অমর গ্রন্থ সত্যার্থ প্রকাশের তৃতীয় সমুল্লাসে দিয়েছেন। এই একই বিষয়ে [ঋগ্বেদ ৮/৬/২৮] মধ্যে বলা রয়েছে। 

এখন বেদ ও অগ্নিহোত্র আদিতে অনধ্যায় অর্থাৎ এগুলো কখনো ত্যাগ করা উচিত নয় — 
वेदोपकरणे चैव स्वाध्याये चैव नैत्यके । 
नानुरोधोऽस्त्यनध्याये होममन्त्रेषु चैव हि ॥ 
[মনুস্মৃতি ২/১০৫] 
অর্থ- (বেদোপকরণে চৈব) বেদের পঠনপাঠনে (চ) এবং (নৈত্যকে স্বাধ্যায়ে) নিত্যকর্মে বিহিত গায়ত্রী জপ বা সন্ধ্যোপাসনায় (হোম-মন্ত্রেষু চৈব) অনধ্যায় অর্থাৎ না করার ভূল করবে না। ভাব এই যে, এই অনুষ্ঠান সমূহের প্রত্যেক স্থিতিতে করা আবশ্যক। 
☞ এখানে আমরা স্পষ্টরূপে জানতে পারলাম যে, অগ্নিহোত্রাদি যজ্ঞ প্রত্যেক স্থিতিতে করা আবশ্যক। কোনো নির্দিষ্ট সময় তথা রজঃস্বলা স্ত্রীদের জন্য এখানে ব্যাতিরেক নিয়ম বর্ণিত হয় নি; বরং সর্বজনীন রূপে এগুলোর ত্যাগ যেকোনো পরিস্থিতিতে নিষিদ্ধ করেছে। 

এবার দেখুন যজ্ঞ আদির ত্যাগ কখনো সম্ভব হয় না – 
नैत्यके नास्त्यनध्यायो ब्रह्मसत्रं हि तत्स्मृतम् । 
ब्रह्माहुतिहुतं पुण्यमनध्यायवषट्कृतम् ॥
[মনুস্মৃতি ২/১০৬] 
অর্থ- (নৈত্যকে অনধ্যায়ঃ ন + অস্তি) সন্ধ্যা-যজ্ঞ আদি নিত্যচর্চার অনুষ্ঠানের ত্যাগ অথবা সেগুলো থেকে বিশ্রাম হয় না (হি) কেননা (তৎ ব্রহ্মসত্রং স্মৃতম্) সেগুলোকে পরমাত্মার উপাসনার অনুষ্ঠান মানা হয়। (অনধ্যায়বষট্কৃতম্) বিশ্রামকালেও সম্পাদিত যজ্ঞ-সদৃশ উত্তম কর্ম এবং (ব্রহ্ম-আহুতি-হুত্তম্) ব্রহ্মকে করা সমর্পণ অর্থাৎ সন্ধ্যোপাসনা (পুণ্যম্) সর্বদা পূণ্যদায়ক হয়। 
☞ তাহলে সেই নামধারী পণ্ডিতগণ কোন যুক্তিতে বলতে পারে যে, রজঃস্বলা নারীগণ অপবিত্র তথা যজ্ঞ তথা অগ্নিহোত্রে তাঁদের অধিকার নেই। এটি হঠকারিতা ছাড়া আর কিছুই না। 

অতএব আমরা বলতে পারি যে, স্বাধ্যায় কখনোই ত্যাগ করা উচিত নয়, সেটা যেকোনো পরিস্থিতিতে। এখন স্বাধ্যায় শব্দের অর্থ বিশ্লেষণ করছি- ‘স্বাধ্যায়’ শব্দ দ্বারা মনুর অভিপ্রায়, বেদের নিরন্তর সাঙ্গোপাঙ্গ অধ্যয়ন, সন্ধ্যোপাসনা এবং অগ্নিহোত্র। এগুলো তিনি স্বয়ং [মনুস্মৃতি ২/১০৪, ১০৫, ১০৬] মধ্যে বলেছেন। এর অতিরিক্ত নিম্ন শ্লোকেও স্পষ্টত বলেছেন যে বেদাধ্যয়ন, অগ্নিহোত্র আদিকে স্বাধ্যায় বলে। [মনুস্মৃতি ২/১৬৫-১৬৮; ৩/৭৫; ৪/১৭-২০; ৪/১৪৭-১৪৯; ১১/২৪৫]। 

অপবাদকারীদের নিকট রজঃস্বলা স্ত্রীগণ অপবিত্র হওয়ায় স্বাধ্যায় আদিও করা নিষেধ। কিন্তু যেখানে স্বয়ং বেদ বলছে যে- “বেদের পাঠে আত্মসন্তুষ্টি হয়, পবিত্রতা আসে” তো আমরা কোনটি মান্য করবো? বেদের বচন নাকি হঠকারী সেইসব ব্যক্তিদের বচন? 
পাবমানীর্য়ো অধ্যেত্যৃষিভিঃ সম্ভৃতং রসম্। 
তস্মৈ সরস্বতী দুহে ক্ষীরং সর্পিঃ মধূদকম্॥ 
[ঋগ্বেদ ৯/৬৭/৩২] 
অর্থ- বেদবিদ্যা অধ্যয়নকারীকে পবিত্র করে, তাঁর মধ্যে সত্য বিদ্যার সার পরিপূর্ণ থাকে, সেই বেদবিদ্যা অধ্যয়নকারীর জন্য দুধ, ঘী, মধু এবং জল বর্ষণকারী অর্থাৎ আত্মসন্তুষ্টি, বল, মধুরতা এবং শান্তি প্রদান করে। 
☞ এখন বলুন, যেখানে বেদ পাঠের মাধ্যমেই মনুষ্য [স্ত্রী/পুরুষ] পবিত্র হয়, তো সেই বেদ পাঠে নিষেধ করা হয় কোন যুক্তিতে? যদি মেনেও নেওয়া যায় যে তাঁরা মানসিক ভাবে অশুদ্ধ, তো বেদ স্বয়ং বলছে যে, বেদের পাঠের মাধ্যমে শুদ্ধতা আসে। অতএব অশুদ্ধ হোক বা অপবিত্র হোক, বেদের পাঠ তথা নিত্যকর্ম যজ্ঞ অবশ্য করা উচিত। 

এবার একটি প্রশ্ন আসতেই পারে যে, নারীরা তো সেই সময় শারীরিক, মানসিক ভাবে অশুদ্ধ থাকে। তো শুনুন, আমরা এটা কখনোই মান্যতা প্রদান করি না যে নারীরা অশুদ্ধ হয়। কেননা পবিত্র বেদেই নারীকে বলা হয়েছে “শুভ্রময়ী”। তবুও যদি এই অশুদ্ধতার বিষয়ে কারোর খটকা লেগে থাকে তবে তাদের জন্য — 
अद्भिर्गात्राणि शुद्ध्यन्ति मनः सत्येन शुद्धयति । विद्यातपोभ्यां भूतात्मा बुद्धिर्ज्ञानेन शुद्धयति ॥
[মনুস্মৃতি ৫/১০৯] 
অর্থ- (গাত্রাণি অদি্ভঃ শুদ্ধয়ন্তি) শরীর এবং শরীরের অঙ্গ জল দ্বারা শুদ্ধ-নির্মল হয়, (মনঃ সত্যেন শুদ্ধ্যতি) মন সত্য সংঙ্কল্প, সত্যভাষণ এবং সত্যাচারণ দ্বারা শুদ্ধ হয়, (ভূতাত্মা বিদ্যা-তপোভ্যাং) জীবাত্মা বিদ্যাপ্রাপ্তি এবং ধর্মপালন রূপ তপ দ্বারা তথা (বুদ্ধিঃ + জ্ঞানেন শুদ্ধ্যতি) বুদ্ধি অধিকাধিক সত্যজ্ঞানের অর্জন দ্বারা শুদ্ধ হয়। 

এখন এখানে যে বিষয়গুলো আসলো তা হলো, প্রথমত অশুদ্ধির বিষয় যা জল দ্বারাই শুদ্ধ হয়। আর দ্বিতীয়ত বিষয় যা স্বাধ্যায় আদি নিত্যকর্ম, এগিয়ে আবশ্যিক রূপে নিত্যদিন করতেই হবে। কারণ যজ্ঞের দ্বারাই মনুষ্য শুদ্ধ হয়, তো অশুদ্ধতা দূর করার জন্যই যজ্ঞ করা হয়। “यज्ञ वै शुद्धतम कर्मः” অর্থাৎ যজ্ঞ হলো শুদ্ধতম কর্ম। তাহলে শুদ্ধতা প্রাপ্তির জন্য এই যজ্ঞই করা উচিত, আর সেখানে এক শ্রেণীর লোকেরা নারীদের একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য [রজঃস্বলা কালীন] যজ্ঞ থেকে বহিষ্কৃত করতে উদ্যত। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। 

এত এত শাস্ত্র প্রমাণের পরেও যারা বলবে রজঃস্বলা অবস্থায় নারীরা অপবিত্র তথা যজ্ঞে অধিকার নেই, তারা নারীদের পূজা [সন্মান] করতেই জানে না। আর মনুস্মৃতিতে বলা হয়েছে যে,,,,  
यत्र नार्यस्तु पूज्यन्ते रमन्ते तत्र देवताः । 
यत्रैतास्तु न पूज्यन्ते सर्वास्तत्राऽफलाः क्रियाः ॥ 
=[মনুস্মৃতি ৩/৫৬]= 
অর্থ- যে সমাজে নারীদের যথাযথ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা হয় সেই সমাজ উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করে। আর যারা নারীদের যোগ্য সম্মান করে না, তারা যতই মহৎ কর্ম করুক না কেন, তার সবই নিষ্ফল হয়ে যায়। 

সর্বোপরি নারীরা সর্বাবস্থায় শুদ্ধ ও যজ্ঞ কর্মে অধিকারিণী। তাই নারীদের সর্বদা শুভ কর্মের প্রেরিত করতে উৎসাহিত করুন, তথা নারীদের শ্রদ্ধা করুন। ঈশ্বরের নির্মিত এই সৃষ্টিতে নারীদেরও ততটুকুই অধিকার রয়েছে, যতটুকু অধিকার রয়েছে একজন পুরুষের। কেননা আমরা সকলেই সেই পরমপিতা পরমাত্মার সন্তান “অমৃতস্য পুত্রাঃ”। 

ইত্যোম্ 
শ্রী রজিৎ চন্দ্র বর্মন

মোক্ষ মীমাংসা

 মোক্ষ মীমাংসা 

(কীভাবে মনুষ্যের মুক্তি সম্ভব) 


আপনারা হয়তো অনেকের কাছে শুনে থাকবেন যে, “আমরা কলিহত জীব, অতশত কোটি কোটি মন্ত্রের বেদ-পাঠ আমরা করতে পারবো না, কৃষ্ণ নাম করলেই আমরা মুক্তি পাব”। এমনকি অনেকে এরূপও বলে যে, “একবার কৃষ্ণ নামে যত পাপ হরে, জীবের কি সাধ্য আছে তত পাপ করে”। আর এসব লোককথা শুনেই আমরা হয়ে যাই আনন্দে আত্মহারা, সারাদিন যা ইচ্ছে করি রাতে এসে কৃষ্ণ নাম জপ করি। ব্যাস্, এতেই সব শেষ, আমাদের শিক্ষা শেষ, আমাদের অধ্যবসায় শেষ, আমাদের চর্চা শেষ, আমাদের জ্ঞান অন্বেষণ শেষ, তার সাথে আমাদের মোক্ষ প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষাও শেষ। কেন বলছি এ-কথা? কারণ যে জাতি নিজস্ব জ্ঞান তথা ঐশ্বরিক উপদেশকে উপেক্ষা করে তাঁদের সর্বনাশ হবে না তো, কী হবে? 

আজ সমাজে যারা শাক্ত, তাদের মোক্ষের পথ ভিন্ন; যারা বৈষ্ণব, তাদের মোক্ষের পথ ভিন্ন; মোদ্দা কথা একেক মত-পথের একেক রকম মুক্তি পথ। এই সব মতে-পথে চলে কি আদৌ তারা মুক্তি পাবে? না! অনেকেই আবার বলে যে যা করে করুক, সকলেই মুক্তি পাবে নিজ নিজ মত-পথ অনুযায়ী। কিন্তু আসলেই কি তাই? না। কারণ, যেরূপ সূর্য কেবল এক দিকেই ওঠে, অন্য তিন দিকে ওঠে না; সেইরূপ মোক্ষ অর্থাৎ মুক্তিও কেবল একটি মার্গেই পাওয়া যায়, সব মার্গে নয়। মহাভারতে একবার ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির পিতামহ ভীষ্মকে জিজ্ঞেস করেছিল যে — 

“মোক্ষঃ পিতামহেনোক্ত উপায়ান্নুপুপায়তঃ।

তমুপায়ং য়থান্যায়ং শ্রোতুমিচ্ছামি ভারত॥” 

(মহাভারত শান্তিপর্ব, অধ্যায় ২৭৪, শ্লোক ১) 

অনুবাদ – যুধিষ্ঠির পিতামহ ভীষ্মকে জিজ্ঞেস করলো যে, হে পিতামহ! আপনি সঠিক উপায়ে মোক্ষ প্রাপ্তির মার্গ বলুন, ভ্রান্ত উপায়ে নয়। হে ভরতনন্দন! সেই সঠিক মার্গ কোনটি? আমি তা শুনতে চাই। 

এর উত্তরে পিতামহ ভীষ্ম বলেন — 

“পূর্বে সমুদ্রে য়ঃ পন্থাঃ স ন গচ্ছতি পশ্চিমম্।

একঃ পন্থা হি মোক্ষস্য তন্মে বিস্তরতঃ শৃণু॥” 

(মহাভারত শান্তিপর্ব, অধ্যায় ২৭৪, শ্লোক ৪) 

অনুবাদ – দেখো বলছি, যে মার্গ পূর্ব সমুদ্রের দিকে যায়, তা পশ্চিম সমুদ্রের দিকে যেতে পারে না। এই প্রকার মোক্ষেরও একটিই মার্গ রয়েছে। 


☞ যেখানে পিতামহ ভীষ্ম পর্যন্ত বলছেন যে “মোক্ষ লাভের কেবল একটি মাত্রই পথ রয়েছে” সেখানে আমাদের আজকের প্রচলিত এই মত-পথ সমূহ সাধারণতই ভ্রান্ত প্রতিপন্ন হয়ে যায়। 


আমার এরূপ বলার কারণ কী? কারণ, আমি চাই সমগ্র সংসার যেন এই মিথ্যার জাল থেকে বেরিয়ে সত্যকে গ্রহণ করতে পারে। যেরূপ বিদুর বলেছিল — 

“পুরুষা বহবো রাজন্ সততং প্রিয়বাদিনঃ। 

অপ্রিয়স্য তু পথ্যস্য বক্তা শ্রোতা ব দুর্লুভাঃ॥” 

(বিদুর নীতি ৩৭.১৪) 

সরলার্থ – হে ধৃতরাষ্ট্র! সর্বদা সুন্দর-সুষ্ঠ বচনকারী সংসারে অনেক ব্যক্তি তুমি পাবে, কিন্তু কটু এবং হিতকারী বচনকারী এবং শ্রবণকারী অনেক বিরলতার সহিত পাবে। 

সেইরূপ, সংসারে অনেক ব্যক্তিই অনেক কথা বলবে, সেগুলো ভালোও লাগবে, কিন্তু শাস্ত্রীয় সিদ্ধান্ত এবং প্রকৃত নিয়মের কথন অনেকের ভালো না লাগলেও সেই কথাই প্রকৃত সত্য ও পালনীয়। 


আজ আমরা বেদাদি শাস্ত্র থেকে মুক্তি লাভের উপায় সম্পর্কে জ্ঞাত হবো, চলুন শুরু করা যাক। 

আমরা সকলেই জানি যে পরমাত্মা কেবল একজন৷ “ভূতস্য জাতঃ পতিরেক আসীৎ” [ঋগ্বেদ ১০.১২১.১] অর্থাৎ, এই উৎপন্ন জগতের সেই পরমেশ্বরই একমাত্র স্বামী। তো সেই পরমেশ্বরকে প্রাপ্ত করার বিষয়ে বেদ বলছে — 

“ত্বং চ সোম নো বশো জীবাতুং ন মরামহে।

প্রিয়স্তোত্রো বনস্পতিঃ॥”

(ঋগ্বেদ ১/৯১/৬)


পদার্থ – হে (সোম) সৎকর্মে প্রেরক প্রভু ! আপনি (নঃ) আমাদের (জীবাতুম্) জীবনের (বশঃ) কামনাকারী (প্রিয়স্তোত্রঃ) এবং যাঁর গুণের কথন প্রেম উৎপন্ন কারক এভাবে (বনস্পতিঃ) আপনি আপনার ভক্ত ও সেবনীয় পদার্থের পালনকারী। আপনাকে জেনে (ন মরামহে) আমার মৃত্যুকে প্রাপ্ত হই না তথাপি মোক্ষরূপী অমর অবস্থাকে প্রাপ্ত হই।


সরলার্থ – হে সৎকর্মে প্রেরক প্রভু ! আপনি আমাদের জীবনের কামনাকারী এবং যাঁর গুণের কথন প্রেম উৎপন্ন কারক এভাবে, সেই আপনি আপনার ভক্ত ও সেবনীয় পদার্থের পালনকারী। আপনাকে জেনে আমার মৃত্যুকে প্রাপ্ত হই না তথাপি মোক্ষরূপী অমর অবস্থাকে প্রাপ্ত হই।


এছাড়াও (ঋগ্বেদ ১/১৬৪/২৩)-এ বলা রয়েছে “য় ইত্তদ্বিদুস্তেঽমৃতত্বমানশুঃ” অর্থাৎ যে সেই ব্রহ্মকে জানে, সে অমৃতত্ব মোক্ষকে প্রাপ্ত করে। 


(তৈত্তিরীয় উপনিষদ ২/১/২)-তে বলা হয়েছে “ব্রহ্মবিদাপ্নেতি পরম্” অর্থাৎ ব্রহ্মবেত্তাই পরমফল মোক্ষকে প্রাপ্ত করে। 


“বেদাহমেতং পুরুষং মহান্তং আদিত্যবর্ণং তমসঃ পরস্তাৎ।

ত্বমেব বিদিত্বাতি মৃত্যুমেতি নান্যঃ পন্থা বিদ্যতেঽয়নায়॥”

(যজুর্বেদ ৩১/১৮)


পদার্থ – মনুষ্যের কাছে আপ্তকাম ঋষির ঐশ্বরিক আহ্বান, শোন, হে মানব! (অহম্) আমি (এতম্) পূর্বে উক্ত (মহান্তম্) অত্যন্ত গূঢ়, (আদিত্যবর্ণম্) আদিত্যের তুল্য প্রকাশস্বরূপ (তমসঃ) অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে (পরস্তাৎ) পৃথক বর্তমান (পুরুষম্) সেই পরমাত্মাকে (বেদ) জেনেছি। (ত্বম্ এব) তাঁকে (বিদিত্বা) জেনেই তোমরা (মৃত্যুম্) মৃত্যুর চক্রকে (অতি এতি) অতিক্রম করতে পারবে, (অন্য) অন্য কোন (পন্থাঃ) পথ/মার্গ (অয়নায়) অভীষ্ট মোক্ষের জন্য (ন বিদ্যতে) বিদ্যমান নেই।


সরলার্থ – মনুষ্যের কাছে আপ্তকাম ঋষির ঐশ্বরিক আহ্বান, হে মানব! আমি অত্যন্ত গূঢ়, আদিত্যের তুল্য প্রকাশস্বরূপ, অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে পৃথকরূপে বর্তমান সেই পরমাত্মাকে জেনেছি। তাঁকে জেনেই তোমরা মৃত্যুর চক্রকে অতিক্রম করতে পারবে, অভীষ্ট মোক্ষের জন্য অন্য কোন পথ বা মার্গ আর নেই। 


ভাবার্থ – পরমাত্মা উপদেশ দিচ্ছেন যে, তাঁকে জানতে হবে। সেই গূঢ় আদিত্যের ন্যায় পরমাত্মা অজ্ঞানরূপ অন্ধকারের আড়ালে বর্তমান। অন্ধকারকে ভেদ করে তাঁকে জেনেই এই অবিরাম জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্ত হয়ে মোক্ষপ্রাপ্তি সম্ভব। এছাড়া মুক্তির অন্য কোন পথ নেই। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বিখ্যাত বেদমন্ত্রটির অনুবাদ করেছিলেন এভাবে — 

‘‘শোনো বিশ্বজন, শোনো অমৃতের পুত্র যত দেবগণ! 

দিব্যধামবাসী, আমি জেনেছি তাঁহারে

মোহান্ত পুরুষ যিনি আঁধারের পারে। 

জ্যোতির্ময় তারে জেনে তারি পথ চাহি

মৃত্যুরে লঙ্ঘিতে পারো অন্য পথ নাহি।

রে মৃত ভারত শুধু এক পথ আছে নাহি অন্যপথ।” 


এই মন্ত্র দ্বারা স্বয়ং পরমাত্মাই আমাদের জানান দিচ্ছে যে, মোক্ষকে প্রাপ্ত করতে গেলে আগে জানতে হবে তাঁকে। তাঁকে না জেনে কেউই মোক্ষ লাভ করতে পারবে না। এবার তাহলে আসি কীভাবে আমরা পরমাত্মাকে জানবো এই বিষয়ে। পরমাত্মাকে জানা মানে তাঁর আকার, আকৃতি, দেহের রং এগুলো জানা নয়, বরং তাঁর স্বরূপকে জানা। পরমাত্মার স্বরূপ কেমন, এই বিষয়ে বেদ বলছে — 

“স পর্য়গাচ্ছুক্রমকায়মব্রণমস্নাবিরং শুদ্ধমপাপবিদ্ধম্ ।

কবির্মনীষী পরিভূঃ স্বয়ম্ভূর্য়াথাতথ্যতোঽর্থান্ ব্যদধাচ্ছাশ্বতীভ্যঃ সমাভ্যঃ॥” 

(যজুর্বেদ ৪০/৮)


পদার্থ – হে মনুষ্য! যে ব্রহ্ম (শুক্রম্) শীঘ্রকারী, তেজস্বী, সর্বশক্তিমান, (অকায়ম্) স্থূল, সূক্ষ্ম এবং কারণ শরীর রহিত, (অব্রণম্) ছিদ্ররহিত এবং যাকে খণ্ডিত করা যায় না, (অস্নাবিরম্) নাড়ি আদির বন্ধন রহিত, (শুদ্ধম্) অবিদ্যাদি দোষ রহিত হওয়ার কারণে সদা পবিত্র, (অপাপবিদ্ধম্) যিনি কখনো পাপযুক্ত, পাপাচারী এবং পাপপ্রেমী নন, তিনি (পরি অগাৎ) সর্বত্র ব্যাপক, (কবিঃ) সর্বজ্ঞ, (মনীষী) সকল জীবের মনোবৃত্তির জ্ঞাতা, (পরিভূঃ) দুষ্ট পাপীদের তিরস্কারকারী, (স্বয়ম্ভূঃ) অনাদিস্বরূপ, যার সংযোগ দ্বারা উৎপত্তি এবং বিয়োগ দ্বারা বিনাশ হয় না, যার মাতা পিতা কেউ নেই এবং যার গর্ভবাস, জন্ম, বৃদ্ধি এবং ক্ষয় হয় না, সেই পরমাত্মা (শাশ্বতীভ্যঃ) সনাতন, অনাদিস্বরূপ, নিজ স্বরূপের দৃষ্টিতে উৎপত্তি এবং বিনাশ রহিত (সমাভ্যঃ) প্রজাদের জন্য (য়াথাতথ্যতঃ) যথাযথভাবে (অর্থান্) বেদের দ্বারা সমস্ত পদার্থের (ব্যদধাৎ) বিশেষ উপদেশ প্রদান করেছেন, (সঃ) সেই পরমাত্মাই তোমাদের উপাস্য । 


অনুবাদ – হে মনুষ্য! যে ব্রহ্ম শীঘ্রকারী, তেজস্বী, সর্বশক্তিমান, স্থূল, সূক্ষ্ম এবং কারণ শরীর রহিত, ছিদ্ররহিত এবং যাকে খণ্ডিত করা যায় না, নাড়ি আদির বন্ধন রহিত, অবিদ্যাদি দোষ রহিত হওয়ার কারণে সদা পবিত্র, যিনি কখনো পাপযুক্ত, পাপাচারী এবং পাপপ্রেমী নন, তিনি সর্বত্র ব্যাপক, সর্বজ্ঞ, সকল জীবের মনোবৃত্তির জ্ঞাতা, দুষ্ট পাপীদের তিরস্কারকারী, অনাদিস্বরূপ, যার সংযোগ দ্বারা উৎপত্তি এবং বিয়োগ দ্বারা বিনাশ হয় না, যার মাতা পিতা কেউ নেই এবং যার গর্ভবাস, জন্ম, বৃদ্ধি এবং ক্ষয় হয় না, সেই পরমাত্মা সনাতন, অনাদিস্বরূপ, নিজ স্বরূপের দৃষ্টিতে উৎপত্তি এবং বিনাশ রহিত প্রজাদের জন্য যথাযথভাবে বেদের দ্বারা সমস্ত পদার্থের বিশেষ উপদেশ প্রদান করেছেন, সেই পরমাত্মাই তোমাদের উপাস্য । 


পরমেশ্বর কেমন? যে ব্রহ্ম শীঘ্রকারী, সর্বশক্তিমান, স্থূল, সূক্ষ্ম ও কারণ শরীররহিত, ছিদ্ররহিত এবং অখণ্ড নাড়ি আদির বন্ধনরহিত, অবিদ্যাদি দোষরহিত হওয়ার কারণে সদা পবিত্র; যিনি কখনো পাপযুক্ত, পাপাচারী এবং পাপপ্রিয় হন না; তিনি সর্বজ্ঞ, সকল জীবের মনেবৃত্তির জ্ঞাতা, দুষ্ট পাপীদের তিরস্কারকারী, স্বয়ম্ভূ অর্থাৎ অনাদি, তিনি সংযোগ দ্বারা উৎপত্তি এবং বিয়োগ দ্বারা বিনাশ হন না। তাঁর মাতা পিতা কেউ নেই, তিনি কখনো গর্ভবাস করেন না। তিনি জন্ম, বৃদ্ধি এবং ক্ষয়রহিত। অনন্ত শক্তিবান, অজ, নিরন্তর সদা মুক্ত, ন্যায়কারী, নির্মল, সর্বজ্ঞ, সবার সাক্ষী, নিয়ন্তা, অনাদিস্বরূপ ব্রহ্ম, সৃষ্টির আদিতে সনাতন অনাদি স্বরূপ দ্বারা উৎপত্তি এবং বিনাশ দ্বারা রহিত জীবের জন্য যথার্থরূপে বেদের দ্বারা সমস্ত পদার্থের উপদেশ করেছেন। 

এই হচ্ছে পরমাত্মার প্রকৃত স্বরূপ। তাঁকে এইরূপে না জানলে কেউই মুক্তি লাভ বা মোক্ষকে প্রাপ্ত করতে পারবে না। 


মনুস্মৃতিতে বলা রয়েছে যে, ছয় প্রকারের কর্ম আছে। যা মোক্ষ প্রাপ্ত করায়। তো চলুন দেখে নেই কোন সেই ছয় কর্ম — 

“বেদাভ্যাসস্তপোজ্ঞানমিন্দ্রিয়াণাং চ সংযমঃ। 

ধর্মক্রিয়াঽত্মচিন্তা চ নিঃশ্রেয়সকরং পরম্॥” 

(মনুস্মৃতি ১২/৮৩) 

পদার্থ – (বেদাভ্যাসঃ, তপঃ, জ্ঞানম্, ইন্দ্রিয়াণাং সংযমঃ, ধর্মক্রিয়া, চ আত্ম-চিন্তা) বেদের অভ্যাস, তপ অর্থাৎ ব্রতসাধনা, জ্ঞান, ইন্দ্রিয় সংযম, ধর্মক্রিয়া এবং আত্মচিন্তা অর্থাৎ পরমাত্মার জ্ঞান এবং ধ্যান; এই ছয়টি (নিঃশ্রেয়সকরং পরম্) মোক্ষ প্রদানকারী সর্বোত্তম কর্ম। 


সরলার্থ – বেদের অভ্যাস, তপ অর্থাৎ ব্রতসাধনা, জ্ঞান, ইন্দ্রিয় সংযম, ধর্মক্রিয়া এবং আত্মচিন্তা অর্থাৎ পরমাত্মার জ্ঞান এবং ধ্যান; এই ছয়টি মোক্ষ প্রদানকারী সর্বোত্তম কর্ম। 


(i) বেদের অভ্যাস: বেদ সনাতন ধর্মের মূল — 

বেদোঽখিলো ধর্মমূলং স্মৃতিশীলে চ তদ্বিদাম্ ।

আচারশ্চৈব সাধূনামাত্মনস্তুষ্টিরেব চ॥ (মনুস্মৃতি ২.৬)। তাই বেদ ব্যতিত কখনো ধর্ম তথা ঈশ্বরকে জানা যায় না। অতএব মোক্ষ প্রাপ্ত করার ক্ষেত্রে মুখ্য স্তম্ভ হচ্ছে পবিত্র বেদ। 


(ii) তপস্যা বা ব্রতসাধনা: মনুস্মৃতি ১২.১০৪ তে বলা হয়েছে “তপো বিপ্রস্য নিঃশ্রেয়সকরং পরম্” অর্থাৎ তপস্যা বা ব্রতসাধনা হলো বেদজ্ঞের জন্য মুক্তির পরম সাধন। 


(iii) জ্ঞান বা সত্যবিদ্যা: সাংখ্যদর্শনের অধ্যায় ৩, সূত্র ২৩-তে রয়েছে “জ্ঞানান্মুক্তিঃ” অর্থাৎ জ্ঞানের দ্বারাই মুক্তি বা মোক্ষ লাভ হয়। 


(iv) ইন্দ্রিয় সংযম: “শমে যত্নবান্ স্যাৎ” (মনুস্মৃতি ১২.৯২) অর্থাৎ ইন্দ্রিয় সংযমী ব্যক্তি মোক্ষ প্রাপ্তির যোগ্য হয়ে থাকে। 


(v) ধর্মক্রিয়া: ধর্মক্রিয়া হলো ধর্মে অন্তর্গত সকল পবিত্র কার্য, যেমনঃ যজ্ঞ আদি। এই বিষয়ে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন — “যজ্ঞদানতপঃ কর্ম ন ত্যাজ্যং কার্যমেব তৎ” (গীতা ১৮/৫) অর্থাৎ যজ্ঞ, দান, তপস্যারূপ কর্ম কখনো কোনো অবস্থাতেই ত্যাগ করা উচিত নয়। এর মধ্যেই আত্মচিন্তা নিহিত রয়েছে। 


(vi) ধ্যান (উপাসনা): পবিত্র বেদে বলা রয়েছে — 

“নাম নাম্না জোহবীতি পুরা সূর্য়াৎপুরোষসঃ। 

য়দজঃ প্রথমং সংবভূব স হ তৎস্বরাজ্যমিয়ায় য়স্নান্নন্যৎপরমস্তি ভূতম্॥”

(অথর্ববেদ ১০/৭/৩১)

পদার্থ – (য়ৎ) যে (অজঃ) অজন্মা, প্রগতিশীল মহাত্মা (প্রথমম্) সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রহ্মের প্রতি (উষসঃ পুরা) উষাকালের পূর্বে, সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং (সূর্য়াৎ পুরা) সূর্যাস্থের পূর্বে (সং বভূব) সংযুক্ত হয়ে গিয়ে উপাসনা করে এবং (নাম) নমস্কার করার যোগ্য পরমেশ্বরের (নাম্না) নাম ওঙ্কারের সহিত (জোহবীতি) জপ করে (সঃ হ) তিনিই (তৎ) সেই (স্বরাজ্যম্) স্বরাজকে, আত্মপ্রকাশকে, মুক্তিকে (ইয়ায়) প্রাপ্ত করে (য়স্মাৎ পরম্) যার থেকে বৃহৎ (অন্যৎ ভূতম্) অন্য কিছুই, অন্য কোনো পদার্থ (ন অস্তি) নেই।

সরলার্থ – যে অজন্মা, প্রগতিশীল মহাত্মা সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রহ্মের প্রতি উষাকালের অর্থাৎ সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্থের পূর্বে সংযুক্ত হয়ে গিয়ে উপাসনা করে এবং নমস্কার করার যোগ্য পরমেশ্বরের নাম ওঙ্কারের সহিত জপ করে, তিনিই সেই স্বরাজকে, আত্মপ্রকাশকে, মুক্তিকে প্রাপ্ত করে, যার থেকে বৃহৎ অন্য কিছুই, অন্য কোনো পদার্থ নেই। 

এই ছয়টি কার্য ঘুরে ফিরে একই স্থানের সিদ্ধান্তকে জ্ঞাত করায়। আর তা হলো – ঈশ্বরকে জানা। এই ছয় কর্ম শুধু এতটুকুতেই সমাপ্ত থাকে না, বরং ঈশ্বরকে জেনে তাঁকে প্রাপ্ত করতে যা যা প্রয়োজন সকল কিছুর বর্ণনা এর মধ্যে রয়েছে। 

একটি পর্বালোচনা করা যাক — মুক্তি বা মোক্ষ লাভের জন্য দরকার ঈশ্বর প্রাপ্তি। ঈশ্বর প্রাপ্তির মূল চাবিকাঠি হলো বেদ, তাই বেদের অভ্যাস করতে হবেই। এইজন্যই তো মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী আর্য সমাজের নিয়মাবলীর মধ্যে তৃতীয় নিয়মটি রেখেছেন “বেদ সকল সত্য বিদ্যার পুস্তক, বেদের পঠনপাঠন, শ্রবণ-শ্রাবণ সকল আর্যের পরম ধর্ম”। এখন বেদাভ্যাস করে বেদজ্ঞান লাভ হলো, কিন্তু এখন কাজ হলো সেই বেদজ্ঞানকে ধারণ করে সনাতনের অনন্য ভিত্তি বিবিধ তপস্যা বা ব্রতপালন করা। অতঃপর জ্ঞান চর্চা করা। জ্ঞানের চর্চা করে মনুষ্য পবিত্র হয় (গীতা ৪/৩৮) বটে, কিন্তু শরীরকে পবিত্র করার জন্য প্রয়োজন ইন্দ্রিয় সংযমতা। একে ব্রহ্মচর্যের অন্তর্গতও করা যায়। এর পর আসবে ধর্মীয় কার্য সম্পাদন করা, যেমন যজ্ঞ, দান, তপস্যা ইত্যাদি। পরিশেষে এতসব সব কিছু করেই সমাপ্ত হয় না, আরও উচিত নিয়মিত ধ্যান অর্থাৎ পরমাত্মার উপাসনা করা। 

সর্বোপরি আমরা বলতে পারি যে, কেবল মাত্র এই রূপ পন্থা অবলম্বন করেই মনুষ্য মুক্তিকে লাভ করতে পারবে, অন্য কোনো উপায়ে নয়। 


ইত্যোম্ 

শ্রী রজিৎ চন্দ্র বর্মন